তারেক রহমানের জাতিসংঘে এই ভাষণ পারিবারিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি হবেন তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।
সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা গেছে।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাবেন তিনি। একই দিনে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অসমতা নিয়ে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এসব আলোচনায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানসহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং এর সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং ওই রাতেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।