প্রথম দিকে কিছুদিন বেকার থাকার পর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় একটি চীনা কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। কাজ পেলেও বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ পুরোপুরি শোধ করতে পারেননি তিনি।
দুর্ঘটনার দিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় পাইপলাইনের গভীর গর্তে কাজ করছিলেন ইসমাইল। হঠাৎ মাটি ধসে পড়লে চাপা পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিকেল ৫টার দিকে পরিবারের কাছে পৌঁছায় মৃত্যুর খবর।
ইসমাইলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। বাকরুদ্ধ বাবা। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী সোনিয়া বেগম। তাদের চার বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ইসমাইলের স্ত্রী সোনিয়া বেগম জানান, প্রতিদিন সকালে স্বামীর সঙ্গে তার কথা হতো। দুর্ঘটনার দিন সকালেও কথা হয়েছিল। দুপুরে ফোন দেওয়ার কথা থাকলেও ফোন না আসায় সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে জানতে পারেন দুর্ঘটনায় ইসমাইল মারা গেছেন।
তিনি বলেন, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। অভাবের সংসারে এই অর্থ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
ইসমাইলের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, ধার-দেনা করে ছেলে বিদেশে গিয়েছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। কিন্তু মাটির নিচে চাপা পড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ছেলের মরদেহ দেশে এনে নিজ ভিটায় দাফনের জন্য সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।
স্বজনদের দাবি, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় নিহত ইসমাইলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। পরিবারের শেষ বিদায়ের সুযোগ করে দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।