এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে : ছাত্র জমিয়ত
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাঙ্গনে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজন। এ ধরনের ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। পেশিশক্তির এই নোংরা প্রতিযোগিতাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার যে ঐক্যবদ্ধ শক্তি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল, বর্তমানে তা বিভক্তি ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
‘গুপ্ত রাজনীতি’ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু সংগঠন এখনো গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির পরিপন্থী। “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গোপন রাজনীতির অর্থ হলো কোনো অগণতান্ত্রিক পরিকল্পনা বা ‘হিডেন এজেন্ডা’ থাকা”-যোগ করেন মাযহারী।
তিনি বলেন, গোপন রাজনীতি ক্যাম্পাসে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এ ধরনের কার্যক্রমকে তারা ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান করার দাবি জানান।
ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবির সমালোচনা করে মাযহারী আরও বলেন, ছাত্র জমিয়ত ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়; বরং ‘লেজুড়বৃত্তিক ও সন্ত্রাসী রাজনীতি’ বন্ধ চায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব বৈধ ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনো রাজনৈতিক দলের ‘টর্চার সেল’ হতে পারে না; বরং এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত। হলে সিট বাণিজ্য ও ‘বড় ভাই সংস্কৃতি’ বন্ধ করে প্রশাসনিক নিয়মে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থীকে তার রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে চাপের মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সচেতন বলয় গড়ে তোলার কথাও জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়ত চার দফা দাবি তুলে ধরে।
দাবিগুলো হলো
১. ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
২. গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে হবে উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান।
৩. প্রতিটি হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসকে কোনো একক সংগঠনের ‘পেশিশক্তির চারণভূমি’ হতে দেওয়া যাবে না।
৪. ইনসাফপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি নুর হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি, নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ আজাদী প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন