এ সম্পর্কিত আরও খবর
এবার সার সিন্ডিকেট ভাঙতে তৎপর কৃষি অফিস
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩০ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর দুর্গাপুরে বরাদ্দের সার পাচার, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পুকুরে প্রয়োগ, অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে কৃষি অফিস। ন্যায্য মূলে বরাদ্দের সার পেয়ে খুশী কৃষকেরা।
এই উপজেলার উৎপাদিত আম, পান, সবজি, মাছ সারাদেশ ব্যাপি বিখ্যাত। বিগত বছর গুলোতে সার সিন্ডিকেট কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। সময়মতো ন্যায্য মূলে সার না পেয়ে লোকসানে পড়েছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্য মতে, বর্তমানে আলুর আবাদ হয়েছে ১৫৪৫ হেক্টর, সরিষা ৩৭১০ হেক্টর, গম ৪৮০ হেক্টর, মসুর ১২৫ হেক্টর, কন্দ পেঁয়াজ ১৪৯৫ হেক্টর, উৎপাদনের লক্ষ্যে সার মজুত রয়েছে, ইউরিয়া ৩৪৪.৩০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩০.৭৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ১৬৮.৫৫ মেট্রিক টন, এবং এমওপি ৮২.১৫ মেট্রিক টন। ডিসেম্বর মাসে ইউরিয়ার সহ মোট সারের বরাদ্দ আছে ১৫৪৫ মেট্রিক টন।
সরজমিনে উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ও ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখাযায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন সার ক্রয় করেছেন কৃষকেরা। কৃষি অফিস থেকে সার মনিটরিংয়েয়ে কঠোর ব্যবস্থাপনা দেখা যায়। ডিলার পয়েন্টে নিয়মিত বরাদ্দের সার গুদামে নিশ্চয় করা, ক্যাশ মেমো সহ প্রকৃত কৃষকের মাঝে বিক্রি। নির্ধারিত মূল্য তালিকা ঝুলিয়া রাখা হয় নিশ্চিত করেছে।
এছাড়াও, গত জুলাইয়ে দুর্গাপুর উপজেলায় নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা হতে অবৈধ ভাবে সার দুর্গাপুরে স্থানান্তরের সময় জব্দ করা হয়। গত ১৮ নভেম্বর মাড়িয়া ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামে ২০ বস্তা ডিএপি সার দূর্গাপুর হতে অন্য উপজেলায় স্থানান্তরের সময় জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বিসিআইসি সার ডিলার “মেসার্স শাপলা ট্রেডার্স”কে শোকজ করা হয়। লাইসেন্স বিহীন অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে “মেসার্স আব্দুল্লাহ তাহাসিন ট্রেডার্স” এর ১৩ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়।
মাড়িয়া এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, আমি এবার আলু ও সরিষা চাষ করছি। প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী কিনতে পেরেছি। পূর্বে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হতো, ডিলারেরা অন্য থানায় বিক্রি করে দিতো। এখন কৃষি অফিসে অভিযোগ দিলেই ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাই সার পাচ্ছি।
কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি পেঁয়াজ চাষাবাদ করছি। সার প্রয়োগ ছাড়া ভালো ফসল উৎপাদন হয় না। কিন্তু নির্ধারিত মূলে সার পেতাম না, অতিরিক্ত দামে কিনতে হতো। মাছ চাষিরা পুকুরে প্রয়োগ করতো। কিন্তু এবার সকল সার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হচ্ছে। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কৃষক বাঁচবে দেশ ভর্তুকি শুধু কৃষকের জন্য মাছ চাষির জন্য নয়।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, সার ব্যবস্থাপনা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, জেলার বাহিরে বিক্রির প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উপজেলা জুড়ে কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিতে আমরা কাজ করে চলছি। এই মুহূর্তে আমার উপজেলায় কোনো সার সংকট নেই, বরাদ্দকৃত আরও সার উপজেলায় আসবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন