এ সম্পর্কিত আরও খবর
৩৫০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন বাভি
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ঝড়টির প্রভাবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দ্বীপ দুটি।
সোমবার (৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, বাভির স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। বর্তমানে টাইফুনটি প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করছে।
এনডব্লিউএসের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ঝড়। এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে বলেও মত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
দক্ষিণাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপের মেয়রের কার্যালয় বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে এবং এ সময়ে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
রোটার মেয়রের এক মুখপাত্র বলেন, পুরো এলাকায় তীব্র ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক বাসিন্দা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডল জানান, রোটার উত্তরে অবস্থিত সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন সিনলাকুর আঘাতের পর গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ওই ঝড়ে ১৭ জন নিহত হন এবং প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, সোমবার বিকেলের আগে বাতাসের গতি টাইফুনের মাত্রার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই। এমনকি মধ্যরাতের পরও এটি ক্রান্তীয় ঝড়ের শক্তি ধরে রাখতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসযুক্ত ঝড়কে সুপার টাইফুন বলা হয়। এনডব্লিউএসের ভাষ্য, এ ধরনের ঝড় ক্যাটাগরি ৪ বা ৫ মাত্রার হারিকেনের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর তালিকায় বাভিও যুক্ত হতে যাচ্ছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন