এ সম্পর্কিত আরও খবর
কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ নিহত, উত্তেজনা তুঙ্গে
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৭ জুন) রাতের এই সংঘর্ষের খবর দিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা রাওয়ালাকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ) এলাকায় হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চার পুলিশ সদস্য নিহত হন।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নিহত পুলিশ সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের মধ্যেও অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এদিকে পুরো এলাকায় মোবাইল ডাটা সেবা বন্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাওয়ালাকোটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে শনিবার জানাজার ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে মরদেহ আবার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য জানাজা রোববার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ সময় হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে।
এদিকে নিহত ব্যক্তির পরিবার ঘোষণা দিয়েছে, জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না।
পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। জেএএসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে দাফন করব না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছিল। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা তা মানেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন