এ সম্পর্কিত আরও খবর
লিবিয়ায় অপহৃত নওগাঁর আলমগীর, আড়াই মাস পর মৃত্যুর খবর
- অনলাইন ডেস্ক
- প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহরণের আড়াই মাস পর এলো মৃত্যুর খবর। সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া বাকি জিম্মিদের মাধ্যমে এ তথ্য পাওয়া যায়।
পরিবারের দাবি, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর কর্মস্থল থেকে পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, আলমগীর হোসেন ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোষাকে কিছু লোক মাইক্রোবাসে করে তাকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি।
তিনি জানান, লিবিয়ার একটি সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ৩১ বাংলাদেশীকে জিম্মির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছিল বিভিন্ন মাধ্যমে। এরপর গেল সোমবার দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হয় জিম্মি ব্যক্তিরা। পরে জিম্মিদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি দেখে ভাই আলমগীর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই আস্তানা থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ৫ জন মুক্তি পেয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমার ভাইয়ের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবী করা হয়েছিল। আলমগীর টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জিম্মি থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা।’
মৃত আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে আমাদের কাছ থেকে কেউ মুক্তিপণও দাবি করেনি। গেল সোমবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।’
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন