এ সম্পর্কিত আরও খবর
ডে-কেয়ার সেন্টার শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমান।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা মোট চাহিদার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ করছে।
তিনি বলেন, এর ফলে অসংখ্য শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ডা. জোবাইদা রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। তাই কর্মজীবী পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা ও মান বাড়ানো সময়ের দাবি।
তিনি মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এগুলো শিশুদের জ্ঞানীয়, সামাজিক ও মানবিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের নিষ্ঠা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের কারণে কর্মজীবী মায়েরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মতো মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
কর্মশালার আগে ডা. জোবাইদা রহমান তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিবাযত্ন কেন্দ্র চালুর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্র শুধু কর্মজীবী মায়ের জন্য নয়, প্রতিটি কর্মজীবী পরিবারের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তিনি আরও বলেন, একদিনে শতাধিক দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রশিক্ষিত জনবল, অবকাঠামো এবং ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অল্প সময়ের মধ্যেই এ কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারিত করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন