এ সম্পর্কিত আরও খবর
সেবাখাতে দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সরকারি সেবাখাতে দুর্নীতি ও হয়রানি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির সর্বশেষ খানা জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঘুষ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন পাসপোর্ট অফিস ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সেবাগ্রহীতারা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী, সরকারি সেবার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত পাসপোর্ট অফিস। পাসপোর্ট পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে এই হার ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিআরটিএ। এই সেবায় ঘুষ দেওয়ার হার ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও কৃষি খাতে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভূমি সেবায় ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মানুষকে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার বেশি ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ দিতে হয়েছে। দেশের ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবাখাতে ঘুষের শিকার হয়েছে। আর ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ সেবাগ্রহীতা কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা ২০২৩ সালের জরিপে ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না।
টিআইবি জানায়, দুর্নীতির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ওপর। আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ঘুষের জন্য বেশি আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্য ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেবাখাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সমন্বিত কৌশল ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারি সেবার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার সরাসরি যোগাযোগ কমানো গেলে অনিয়ম ও ঘুষের সুযোগ কমবে।
পাসপোর্ট ও বিআরটিএর মতো সেবা অনলাইনে থাকলেও দুর্নীতি কমছে না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দালাল চক্র ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণে সাধারণ মানুষ এখনও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রাজস্ব খাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করদাতার সংখ্যা কম হওয়ায় জরিপে এনবিআরের অবস্থান তুলনামূলক নিচে থাকলেও এই খাতে দুর্নীতি গভীরভাবে রয়েছে।
সেবাখাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে টিআইবি ১০ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন