এ সম্পর্কিত আরও খবর
সুনামগঞ্জে ঢল আর বাঁধ ভেঙে হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে ধান
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই ভারী বৃষ্টির সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওর ও নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে কৃষকের চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান।
অতিবৃষ্টি ও ঢলের চাপে জেলার অন্তত দুই উপজেলায় দুটি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চান্দালীপাড়া এলাকায় ইকরাছই হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যায়। একইভাবে দেখার হাওরের গুজাউনি বাঁধও ভেঙে গেছে। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরের হরিমণের বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী দুই দিন অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে ঢল নামার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে হাওরাঞ্চলের জন্য সামনে দুই দিনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জে এবার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৪ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রায় অর্ধেক জমির ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছুই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। টানা বৃষ্টি, জমিতে পানি জমে থাকা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকির কারণে ধান কাটায় বড় বাধা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না, আবার শ্রমিক সংকটও প্রকট।
জগন্নাথপুর উপজেলার কৃষক সারদা চরণ দাস জানান, ১৬ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র চার বিঘার ধান কাটতে পেরেছেন। রাতের বৃষ্টিতে বাকি সব জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। একইভাবে দিরাই, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও শান্তিগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
কৃষকেরা জানান, আগে থেকেই অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা ছিল। তার ওপর টানা বৃষ্টি ও ঢলে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো—সবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বজ্রপাতের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই ধানের মায়ায় মাঠে যাচ্ছেন তারা, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না।
এদিকে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলোও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা প্রশাসন সব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে পাহারা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের আওতায় ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে এসব মাটির বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক কৃষকের চোখের সামনে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে, শ্রমিক সংকটে ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন