এ সম্পর্কিত আরও খবর
লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষের মামলায় হয়রানির শিকার বিএনপি নেতাসহ ১০ পরিবার
- ডেস্ক রিপোর্ট
- প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
-
ছবি: নিউজ এক্সপ্রেস
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলায় জড়িয়ে বিএনপি নেতা আবুল কাশেমসহ ১০ পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে সাগরদি গ্রামের আমির উদ্দিন সওদাগর বাড়িতে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনার প্রতিকার চেয়েছেন। ভুক্তভোগী কাশেম বামনী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আমির উদ্দিন সওদাগর বাড়ির মৃত সাহাদ উল্যার ছেলে।
মামলার বাদী রেজনা একই বাড়ির বিএনপি নেতা আবুল কাশেমসহ ভুক্তভোগীরা জানায়, ২৩ মার্চ বিকেলে তাদের প্রতিবেশী মো. ইউছুফকে একই বাড়ির রেজনা আক্তারের ভাই লক্ষ্মীপুর সদর থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক নুর হোসেন নুরুসহ প্রায় ৩০ জন লোক গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজনসহ কাশেম তাকে বাঁচাতে যায়। সেখানে তারা কাশেমকে মারধর করতে তেড়ে এলে তিনি বাসায় চলে যান। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা কাশেমে মারতে তার বাসায় যায়। কিন্তু তাকে মারধর করতে পারেনি। এ ঘটনায় ইউছুফের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার থানায় একটি এজাহার দেয়। এদিকে পরদিন বিকেলে মিথ্যা ঘটনায় অভিযোগ তুলে রেজনা থানায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করর পাল্টা একটি এজাহার দিয়েছে।
আবুল কাশেম বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া জানতে পেরে সমঝোতার জন্য রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেএম নাজমুল ইসলাম মিঠুকে দায়িত্ব দেন। সমঝোতার আশ্বাসে মামলাও হয়নি। এরমধ্যে রেজনার ভাই নুর চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নয়ন আক্তারকে দিয়ে গত ৯ এপ্রিল মামলা করিয়ে নেয়। ওই রাতেই পুলিশ ও নুরুর লোকজন এসে হামলা চালিয়ে আমার ভাই মো. হাসানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্যদেরকেও ধাওয়া করে। হাসিনা সরকারের আমলেও আমাদের ওপর এমন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
মো. ইউছুফ বলেন, আমার সঙ্গে রেজনাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই। নূর আমাকে ডেকেছে, না যাওয়ায় সে লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছে।
ইউছুফের স্ত্রী বিলকিছ আক্তার বলেন, কোন কারণ ছাড়াই আমার স্বামীকে নুরসহ তার লোকজন বেঁধে মারধর করেছে। তারা আমার ১১ মাস বয়সী শিশু সামিরকেও টেনে নিয়ে ফেলে দেয়।
ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার বলেন, ইউছুফকে মারধরের সময় আমার ছেলে আশিক বাঁচাতে যায়। এজন্য তাকে আসামি করা হয়েছে। নুরসহ পুলিশ এসে আমার ছেলেকে ধরতে যায়। এতে আমার ছেলে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে বুকে ব্যাথা পেয়েছে। আমি নুরের বিচার চাই।
সদর থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক নুর হোসেন নুরু বলেন, ইউছুফদের সঙ্গে আমার বোনদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন আমার ভাগিনার বৌভাত ছিল। এতে তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে আমাদেরকে মেহমানদের সামনে ছোট করার জন্য ও তাদের স্বর্ণালংকার চুরির উদ্দেশ্যে। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি। কাশেম মেম্বারের নেতৃত্বে ওইদিন কিশোরাগ্যাংয়ের সদস্যরা এসে হামলা চালায়। এতে আমিসহ অনেকেই আহত হয়েছি।
রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, মারধরের বিষয় নিয়ে এমপি দুই পক্ষকে নিয়ে মিমাংসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরমধ্যেই রেজনা বিএনপি নেতা আবুল কাশেমদের বিরুদ্ধে মামলা করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমরা দেখছি।।
রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, রেজনা নামে এক নারী মামলা করেছেন। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার রাতে কিছুটা কথাকাটি হয়, আমরাও চলে আসি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন