এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর মতো গলাবাজিতে বিএনপি বিশ্বাসী নয়’
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পেয়েছিলেন তলাবিহীন ঝুঁড়ি। সেখান থেকে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নত রাষ্ট্র গড়তে কাজ করছে। বিএনপি ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর মতো গলাবাজিতে বিশ্বাস করে না। একমাস হয়নি (সরকারের) ফ্যামিলি কার্ড, ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নির্ধারণের মতো কাজ করেছে। এ মাসেই কৃষি কার্ড, খাল খনন সহ আরও বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। আজকে যে কার্ড যেওয়া হলো উন্নত বিশ্বের কোনো দেশে এ কার্ড নেই।’
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকড়ী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ২০১ জন নারী এ কার্ড পান। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা তাদের ব্যাংক হিসাবে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যান।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিন প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক নারী প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চিপ সংবলিত এ কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে; ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে। পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী পদ্ধতি’ বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে। ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অপচয় কমবে এবং প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।
বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে যে ‘অপচয়’ হচ্ছে তা কমানোর পক্ষে জোর দিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, ধাপে ধাপে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
কার্ড পেয়ে রহিমা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘কার্ড হাতে পেয়েছি। বিএনপি ভোটের আগে যে কথা দিয়েছিল, সেই কথা রেখেছে। আমি এখন স্বাবলম্বী।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশীদ, রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সালেহ মো. আলী আহসান, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায় লিয়াকত আলী বাবু, সদস্যসচিব কামরুল আলম, সাবেক সদস্যসচিব মনজুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাজা, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাফর আলী মিয়া প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন