এ সম্পর্কিত আরও খবর
উল্লাপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই
- নিউজ এক্সপ্রেস প্রতিবেদক
- প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪২ এএম
-
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বিয়ের নয় মাসের মাথায় যৌতুকের তিন লাখ টাকার দাবিতে শ্বাসরুদ্ধ করে এক কলেজছাত্রী গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালাতে মরদেহ গলায় দড়ি দিয়ে ধরনার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নিহত ওই গৃহবধূর নাম রিয়া খাতুন। তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মো.হায়দার আলী মন্ডলের মেয়ে ও উল্লপাড়া সরকারী আকবর আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রিয়ার সঙ্গে চলতি বছরের ৭ মার্চ পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় উল্লাপাড়া উপজেলার দমদমা গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে সোহেল রানার।
এ ঘটনায় রিয়ার স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। রিয়ার মা রেনুকা বেগম ১২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন রিয়ার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০), তার দেবর মো. জুলহাস (২৪), শ্বশুর শাহজাহান আলী(৫৫), শাশুড়ি মোছা. হাসিনা খাতুন (৫০) এবং মামা শ্বশুর মো. রেজাউল করিম (৪০)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে পরদিন বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে যে কোনো একসময় আসামিরা যৌতুক বাবদ তিন লাখ টাকা দাবিতে রিয়াকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ধরনার সঙ্গে প্লাস্টিকের সাদা রশি বেঁধে গলায় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই রিয়াকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। ঘটনার দিনও একই দাবিতে তাকে মারধর করা হয়।
রিয়ার মা রেনুকা বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে নিহতের চাচা মো. শামীম রেজা বলেন, বিয়ের প্রথম দিকে ভালোই সংসার করছিলো পরে টাকার জন্য আসতে আসতে তাদের সাথে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। সর্বশেষ নভেম্বরের ৭ তারিখে আমার ভাতিজি আমাদের বাড়িতে এসে ৩ লাখ টাকার বিষয়টি জানায় পরে তাকে আর্থিক সংকটের বিষয়টি জানানো হয়। ৮ নভেম্বর সকালে ভাতিজির বর এসে নিয়ে যায় আর ৯ নভেম্বর প্রতিবেশিদের মাধ্যমে মারা যাওয়ার খবর পায়। টাকা না দেওয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন,১২ ডিসেম্বর মামলা করেছি কিন্তু পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি এই প্রযুক্তির যুগে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার না করায় আমরা খুব কষ্ট পাচ্ছি। আসামীরা তো ঠিকিই বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে একটাই চাওয়া দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে নিহত রিয়ার স্বামী সোহেল রানার মুঠোফোনে কল দিলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, ওইটা নিয়ে তদন্ত চলছে আমি ঘটনার স্থলে গিয়েছিলাম। আর মামলার চার্জশিট জমা দিতে মাস দুয়েক সময় লাগবে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ওইটা হত্যা মামলা হয়েছে। ওইটা ডাক্তারও লিখেছে হত্যা। এখন পর্যন্ত আমরা কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলমান আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন