এ সম্পর্কিত আরও খবর
হলের সিট দখল করতে গিয়ে
নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটালেন ছাত্রদল নেতা
- নিউজ এক্সপ্রেস ডেস্ক
- প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
-
ছবি: সংগৃহীত
হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মীকে ঘুষি মেরে নাক ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
এতে তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের একজনের নাক ফেটে রক্ত বের হলে তাকে তাৎক্ষণিক কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ঘটনার পর রাতেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ২০১৩-১৪ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী ও কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান। এ সময় তার সাথে ছিলেন একই সেশনের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২০১৭-১৮ সেশনের তরিকুল এবং ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সিফাত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন- অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য, একই সেশনের নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ নিবির। এরমধ্যে কাব্যের নাক ফেটে গেলে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগীরাও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আতিকুর রহমান কাউকে অবহিত না করে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং একই কক্ষে ২০২৫-২৬ সেশনের আরেক ছাত্রদল কর্মীকেও তোলেন। পাশাপাশি সিফাত নামে একজনকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং হলের সিনিয়রদের বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ সিটে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। এ সময় মৌখিক বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা প্রতিবাদ জানাতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্যসচিব শুভর উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হয়। এতে তার নাক ফেটে যায়। একপর্যায়ে হলের অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
নাক ফাটানোর বিষয়ে কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, ‘কাব্যর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে। দিনের বেলা তাকে নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো হবে।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন‚ ‘আমরা ছাদে আছি এরমধ্যে ছাত্রদলের আতিক এসে আমার কলারে ধরে চড় মারে। আর ১৬ ব্যাচের একজনের নাকে ঘুষি মেরে রক্ত বের করে ফেলেছে। তাদের সাথে সাইফুল, তরিক আর ১৮ ব্যাচের সিফাত নামের একটা ছেলে ছিল। তখন সৌরভের নাক ফেটে যায়, আর আমাকে ধাক্কা মেরে কাঠে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। আতিক আমার ডিপার্টমেন্টের সাবেক শিক্ষার্থী। সে আমাকে পলিটিক্যালি মেরেছে।’
এ বিষয়ে আতিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’
হল প্রভোস্ট ড. মো: জনি আলম বলেন, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই ঘটনার সাথে হল প্রশাসনের কারো কোনো সম্পর্ক থাকলে সেটা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সাথে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
সম্পাদক ও প্রকাশক: Muhammad Awal
Next Waves Ltd.
স্বত্ব © নিউস এক্সপ্রেস মিডিয়া লিমিটেড
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
মন্তব্য করুন